রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলীয় আলোচনা, সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তবে বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এই নির্বাচন দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
দলের নেতাদের ভাষ্য, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার পর। এর আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সংবিধানের সম্ভাব্য সংশোধনী নিয়েও আলোচনা চলছে।
আলোচনায় যাদের নাম:
জানা গেছে, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে বিএনপির নেতারা বলছেন, এসব নাম এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি:
২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি বঙ্গভবনে ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কয়েকটি সংগঠন তার পদত্যাগের দাবি তুললেও সাংবিধানিক জটিলতার কারণে সরকার সে পথে যায়নি।
শুক্রবার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে হবে
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন সংসদ সদস্যরা। কোনো দল কাউকে মনোনয়ন দিলেই তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবেন না; তাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে তফসিল ঘোষণা করবেন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।