চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি রহমান নগরে দেয়ালধসে নিহত শফিকুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের হাতে এবং চশমাহিল ৩ নম্বর রোডে পাহাড়ধসে নিহত সুমাইয়া আক্তার (১২)-এর পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) তাদের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, পাঁচলাইশ থানার আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি প্রমুখ।
এ সময় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের ঈমানি দায়িত্বও। জামায়াতে ইসলামী সবসময় অসহায়, দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব না হলেও পরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি অপসারণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
এসময় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের ঘটনা ঘটে। এতে নগরীর রহমান নগর এলাকায় দেয়ালধসে শফিকুল ইসলাম নিহত হন। একইভাবে পাঁচলাইশ থানার চশমাহিল ৩ নম্বর রোড এলাকায় পাহাড়ধসে ১২ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এসব দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু পরিবার।
দুর্ঘটনার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন, উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।