জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, কৃষি কার্ড অনেক কার্ড আমি হাম্বলি সাজেস্ট করব। আমি অনুরোধ করব জনগণের হাতে কাজ দিন। জনগণ কার্ড চায় না কাজ চায়। এই জাতিকে দারিদ্রতা থেকে মুক্ত করতে চায়। যদি আমরা কাউকে দান করি, কাউকে যদি আমরা কোনো প্রণোদনা দিই কিছুদিনের জন্য তার উপকার হবে, এটা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন আবার তার সেই ভিক্ষার হাতই থাকবে। কিন্তু যদি কাজ দিই তাহলে কিন্তু এই জাতি গড়ে উঠবে।
গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজ সর্ম্পকে অধ্যাপক মুজিব একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুড়াল কিনে সেখানে নিজ হাতে তার দণ্ডটা লাগিয়ে তার দাতা তারা লাগিয়ে কাজ করতে দেওয়ার ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করেছিল এবং সেই সাহাবী তিনি ধনীতে পরিণত হয়েছিলেন। আজকে আমাদের জনগণকে কাজ দিতে হবে। কাজ যদি দিতে পারি বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত হতে পারবে ইনশাআল্লাহ। কারণ আমাদের দেশের লোকেরা কাজ করার ব্যাপারে প্রস্তুত আছে কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই পরিবেশ আমরা দিতে পারিনি।
বাজেট সম্পর্কে অধ্যাপক মুজিব বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, আকিমুস সালাতা ওয়া আতুয যাকাত। নামায কায়েম করো যাকাত চালু করো। নামায চালু করে মানুষের চরিত্র ভালো হয়ে যাবে আর যাকাত চালু করে মানুষের ক্ষুধা দারিদ্র বেকারত্ব দূর হবে। এই শব্দটি মাননীয় অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের লোক ওখানে তো কুরআন হাদিস পড়ার একটা মানে কালচার আছে বলে আমি জানি। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে আয়াত যখন পড়েন তখন মনে হয় যে এ কালচার তিনি করেছেন। আমাদের অর্থমন্ত্রী দেখলাম না যাকাত শব্দটা এখানে উচ্চারণ করেছেন, এমন একটা পৃষ্ঠাও পাই নাই। ঋণের ব্যাপারে অনেক আলোচনা হয়েছে আমি খুব সংক্ষেপে বলতে চাচ্ছি। ঋণ করা সুযোগ আছে তবে ঋণী অবস্থায় মরে যাওয়াটা আল্লাহ পছন্দ করেন নাই। ঋণ পরিশোধ করে মরতে হবে। কেউ যদি ঋণ রেখে মারা যায় কোনো ভালো আমলের পুরস্কার আল্লাহ তায়ালা দেবেন না। সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে। সেইজন্য ব্যক্তিগত ঋণ অথবা সমষ্টিগত ঋণ অথবা জাতীয় ঋণ কোনো ঋণকে ছোট করে দেখা ঠিক হবে না। সেইজন্য ঋণ পরিশোধ অবশ্যই করতে হবে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাংকে ঋণ কত জনের আছে? লক্ষ লক্ষ মানুষের টাকা ব্যাংকে সঞ্চিত আছে, সেই টাকাগুলা আমরা নিয়ে খরচ করছি। এটা যদি খরচ করে মরে যাই, তাদের কাছে এটা ফেরত না দেওয়া হয়, সব মানুষ আমাদের প্রতি হক্কুল ইবাদ হিসেবে আমরা দায়ী থেকে যাবো তাদের কাছে। সেইজন্য ঋণ করা যাবে কিন্তু ঋণ রেখে মারা যাওয়া যাবে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন জানাযার সময় যে তার ঋণ আছে কিনা, যদি দেখা যায় যে তার ঋণ আছে তখন বলতো যে তোমার ভাইয়ের জানাজা তোমরাই পড়ো আমি এর জানাজা পড়ছি না। অতএব ঋণের ব্যাপারে খুবই সাবধান হওয়া উচিত। এরপরে আমি যে কথা বলতে চাই সেটা হলো যে যারা ঋণ করে তারা স্বাধীনভাবে চলতে পারে না। হাদিস একটা আছে, উপরের হাত ভালো নিচের হাতের চাইতে। আল ইয়াদুল উলিয়া খাইরুম মিনাল ইয়াদুস সুফলা। উপরের হাতটা ভালো নিচের হাতের চাইতে। নিচের হাত মানে ফকিরের হাত। ঋণ করা মানে ফকিরের কাজ। এই ফকিরি করে দেশ চালানো যাবে না মাননীয় স্পিকার। আমাদের নিজের সম্পদকে সংগ্রহ করে আমাদের সম্পদ দিয়ে এ দেশ চালাতে হবে। ঋণ করে ঘি খাওয়ার মতো পরিকল্পনা করলে এটা আমাদের জাতি এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি।
তিনি সুদের ব্যাপারে বলেন, সুদের ব্যাপারে বলা হয়েছে জেনে শুনে কেউ যদি একটি টাকা সুদের এটা খায় তাহলে সে যেন ৩৬ বার জেনা করে। সহীহ হাদিস। এই সুদের মধ্যে ৭০টি স্তর আছে, সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে মায়ের সাথে জেনা করা। সুদের ফল দুনিয়ায় ধ্বংস হয়ে যাবে কুরআনের আয়াত। ঐ বলা হয়েছে ইয়ামহাকুল্লাহুর রিবা। আল্লাহ তায়ালা সুদকে ধ্বংস করেন এবং যাকাত সাদকাকে বৃদ্ধি করেন। কুরআন মাজীদ সূরা বাকারা ২৭৬ নম্বর আয়াত। ২৭৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে যারা সুদ করে সুদকে ছাড়ে না, এই সুদের অর্থনীতি দিয়ে চলাফেরা করে, সুদের মাধ্যমেই তারা জীবন জীবিকা করে তাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে তারা যেন আল্লাহ এবং রাসূলের সাথে যুদ্ধ করে। আমরা কি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে রাজি আছি? জবাব দিতে হবে আমাদেরকে। যদি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে না রাজি থাকি অবশ্যই সুদকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এই সুদ ছাড়া
তিনি আরো বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন। সেখানে সুদকে বন্ধ করে যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি সেখানে চালু করার সুন্দর একটা প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই এই যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি করার সুদকে বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ হলোÑ ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, পাকিস্তান। আমি বাংলাদেশকেও মনে করি একটা ওই ধরনের দেশ, যেখানে সুদকে বন্ধ করে ইসলামী অর্থনীতি চালু করার একটা চেষ্টা ইসলামী ব্যাংক করেছিল কিন্তু শকুনের দৃষ্টি ইসলামী ব্যাংকের উপর পড়ার কারণে আজকে এই ব্যাংক বিধ্বস্ত হতে চলেছে। ইসলামী ব্যাংক যখন ঠিকমত চলছিল বড় বড় সুদী ব্যাংক বাংলাদেশে ছিল। তারা যখন দেখল এই সুদী কারবার চলছে না তখন প্রত্যেকটা ব্যাংক তারা ইসলামী কাউন্টার খুলেছিল। এটা প্রমাণ করে বাংলাদেশে সুদ ছাড়াই অর্থনীতি চলতে পারে।
তিনি আরো বলেন, যদি সুদ চালু থাকে জাতির উপরে আল্লাহর আজাব হালাল হয়ে যাবে। যেকোনো সময়ই আল্লাহ তাআলা মহামারী, দুর্যোগ সেখানে নাযিল করতে পারেন। এরপরে শয়তান সুদী যারা জীবনযাপন করে শয়তান তাদেরকে স্পর্শ করে পাগল করে দেয়। তাদের বক্তব্য পাগলের মতো বলে, সুদ এবং ব্যবসা একই জিনিস তারা মনে করে। এটা কুরআনের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন। এরপরে হাদিসে আছে সুদের কোনো টাকাতে, হারাম টাকাতে শরীরের যে অংশটুকু বর্ধিত হবে এটা জাহান্নামের খোরাকে পরিণত হবে। জাহান্নামের জ্বালানি হচ্ছে মানুষ এবং পাথর। অতএব আমাদেরকে সুদ থেকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি যাকাত সর্ম্পকে বলেন, যাকাতের ব্যাপারে আমরা অনেকেই মনে করি যে শুধু যাকাতই আছে। এই যাকাতের মধ্যে অনেক আছে যেগুলা একজন এটা প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠান সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, যে যদি ঠিকমত যাকাত আদায় করা যায় তাহলে বাংলাদেশে ২ লক্ষ কোটি টাকা যাকাত বের হতে পারে। আমাদের যে ঘাটতি বাজেট এই যাকাত দিয়ে পূরণ হতে পারে। এই যাকাত কাকে দিবে? কারা খরচ করবে? যারা যাকাত বোঝে না, যারা টাকা চুরি করে, যারা আত্মসাৎ করে, যারা চাঁদাবাজি করে এই সমস্ত লোকের হাতে যাকাত দিলে যাকাত, যাকাতের হক আদায় হবে না। এজন্য আমাদের বাংলাদেশে আরাফি আলেম আছে, আহলে হাদিস আলেম আছেন, আরও অনেক মাসলাকের লোক আছে, আলেমদেরকে নিয়ে একটা কমিটি করেন। এই যাকাত দিয়ে যাকাত ভিত্তিক অর্থনীতি বাংলাদেশে চালু করতে হবে, সুদ ভিত্তিক অর্থনীতির কবর রচনা করতে হবে। কালো টাকাকে সাদা করার একটা ব্যাপার আছে। কালো টাকা সাদা করার কথা যদিও স্পষ্টভাবে বলা হয় নাই তো কয়েকটা ধারাতে আছে যেখানে কালো টাকাকে সাদা করার প্রস্তাব আছে। কালো টাকা মানে হারাম টাকা। হারাম টাকা ঘুষ দিয়ে কি হালাল করা যাবে? কখনোই যাবে না। এই ধারাটা বন্ধ করতে হবে যে কালো টাকাকে সাদা করা যাবে না। এটা যদি চালু থাকে অন্যায় বলে কোনো জিনিস বাংলাদেশে আর থাকবে না, সব ন্যায় হয়ে যাবে। চুরি করার টাকা, আত্মসাৎ করছে টাকা, বিভিন্নভাবে পাচার করছে টাকা এই টাকাগুলোর মধ্য থেকে কিছু টাকা দিয়ে বা কিছু ট্যাক্স দিয়ে এটাকে যদি হালাল করে ফেলে তাহলে ভালো কাজ আর দুনিয়াতে থাকবে না, হারাম কাজগুলা সব ভালো কাজে পরিণত হয়ে যাবে। মদ এবং বিড়ির কথা বলা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কওমি মাদ্রাসায় কুরআন-হাদিস শিখানো হয়। আপনার সন্তানকে যদি আমরা বা আপনি আমরা দিতে পারি কুরআন-হাদিসের বড় আলেম হয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। অতএব এই কওমি মাদ্রাসার প্রতি অর্থমন্ত্রীর কোনো বাজেট থাকার দরকার যেটা আছে বলে আমার কাছে মনে হয়নি। একজন বলছেন মসজিদে রাজনীতি করা যায় না। ইসলামী রাষ্ট্র যখন মদিনায় হলো রাজধানীটা কোথায় ছিল? মসজিদের মসজিদে নববী ছিল রাজধানী। মসজিদে নববী যদি রাজধানী হতে পারে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মসজিদে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে আছেন উনি একটা সুন্দর উপহার দিবেন লন্ডনে থেকে চিন্তা করেছেন। প্রাইমারি স্কুলের ছোট ছোট সোনামণিদের তাদের গায়ে পোশাক থাকবে, জুতা থাকবে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলব মাদরাসায় যারা লেখাপড়া করে তার মধ্যে কি সেগুলো অন্তর্ভুক্ত আছে? যদি থাকে তাহলে উনাকে ধন্যবাদ। আর যদি না থাকে তাহলে উনাকে যোগ করে নিতে বলবÑ উই ওয়ান্ট জাস্টিস। জুলাইয়ের চেতনা যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে থাকে তাহলে সমতা সব জায়গায় সমতা বিজা মানে মানে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি দাবি করছি মাদরাসার ছাত্রদেরও যাতে পায়ে জুতা থাকে, তাদের শরীরে জামা থাকে তাদেরকেও দেখতে ভালো লাগবে। তিনি শিক্ষকদের, শ্রমিকদের অধিকার নিয়েও সংসদে কথা বলেছেন।