হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত নয়নে চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবিএম দিদারুল ইসলামের নামাযে জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। এতে মরহুমের শিক্ষক, অগণিত সহকর্মী, বন্ধু, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। প্রিয় মানুষটির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে হুমড়ি খেয়ে জানাযাস্থলে সমবেত হয় শোকাহত জনতা। রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মরহুমের দীর্ঘ তিন যুগের অধিক কর্মময় জীবনের স্মৃতি বিজড়িত আঙিনা চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় নামাযে জানাযা। জানাযার ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন মাওলানা জাফর আলম হামিদী।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানের পরিচালনায় বিশাল জানাযাপূর্ব সমাবেশে স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মরহুমের বন্ধু চকরিয়া সিটি কলেজের সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ফখরুদ্দিন ফরায়েজী, চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান আরিফ, সিনিয়র শিক্ষক ছলিম উল্লাহ সেলিম, মরহুমের ভগ্নিপতি দিদারুল আলম ও মরহুমের বড় ছেলে মোহাম্মদ শাফিন।

এসময় কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, চকরিয়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম গিয়াস উদ্দিন, চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদুল আলম চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা জামায়াতের আমীর মেয়র প্রার্থী মো. আরিফুল কবির, চকরিয়া পৌরসভা ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামসুল আলমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জানাযা শেষে মরহুম মাস্টারের নিজ মহল্লার জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাঁর লাশ চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাস্টার এবিএম দিদারুল ইসলাম রোববার সকাল সাড়ে এগারোটায় নিজ বাসভবনে অসুস্থতা বোধ (স্ট্রোক) করলে পরিবার চকরিয়া পৌরশহরের বেসরকারি ক্লিনিক জমজম হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে গভীর পর্যবেক্ষণে থাকেন তিনি। পরে দুপুর সোয়া বারোটার দিকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে তিনি চকরিয়া কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৭বছরের কাছাকাছি শিক্ষকতা করেন। সেখানেই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মহান শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সফল খামারি, কৃষক ও চাষি। সংসার জীবনে মাস্টার দিদারুল ইসলাম ছিলেন ২ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তানের জনক।