ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এসব মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্য মানুষের চিন্তা-চেতনা এবং সামাজিক আচরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এই বাস্তবতায় দায়িত্বশীল তথ্য উপস্থাপন এবং ইতিবাচক সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (২৯ জুন) জেলার উদীয়মান বিষয়বস্তু নির্মাতাদের (কনটেন্ট নির্মাতা) নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, 'বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। মানুষ তার কর্মের মাধ্যমেই সমাজে পরিচিতি লাভ করে। তাই সত্য, দায়িত্বশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।'

তিনি বলেন, কোনো তথ্য প্রকাশের আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। শুধু দর্শক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম বা অসত্য তথ্য প্রকাশ না করে জনসচেতনতামূলক ও ইতিবাচক বিষয় তুলে ধরতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, একটি বিষয়ের উপস্থাপন পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৃজনশীলতা, দৃশ্য ও শব্দের সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি বিষয়বস্তু নির্মাণকে একটি সম্ভাবনাময় ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে তিনি বিশ্বখ্যাত কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পরিকল্পনাকারী ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিনোদনের মাধ্যমেও সমাজে শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। এ জন্য প্রয়োজন সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ।

বিষয়বস্তু নির্মাতাদের দক্ষতা আরও উন্নত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিগগিরই একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব ও এলএ) মো. সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং জেলার বিভিন্ন বিষয়বস্তু নির্মাতা।

সভায় বক্তারা বলেন, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে দায়িত্বশীল তথ্য উপস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করে সচেতন সমাজ গঠনে তরুণ নির্মাতাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।