যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামে মাত্র ১ কেজি ধান নিয়ে বিরোধের জেরে এক তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনের মূল্য যেখানে অপরিসীম, সেখানে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় একটি তাজা প্রাণের ঝরে যাওয়া সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহত সাহাবির (২০) উপজেলার রায়পুর গ্রামের হানিফার ছেলে। দীর্ঘ ২৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে সোমবার (২২ জুন) ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাহাবির তার বাবা হানিফার সঙ্গে ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে রায়পুর বাজারে যান। সেখানে স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী সাকিব ও হাসান মণ্ডলের সঙ্গে ধান মাপজোক নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ধানের ওজনে প্রায় ১ কেজি কম-বেশি হওয়া নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাহাবির ও তার বাবার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বাবা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতদের মধ্যে সাহাবিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেন। অন্যদিকে তার বাবা হানিফা যশোরেই চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার (২২ জুন) অবশেষে সাহাবিরের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারে নেমে এসেছে অসহনীয় শোক।

বিচারে দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসি ও স্বজনরা
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রায়পুর বাজারে মঙ্গলবার সকালে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসি ও স্বজনরা।
সাহাবিরের মৃত্যুর খবরে রায়পুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সামান্য একটি ধান মাপার বিরোধ কীভাবে একজন তরুণের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে? এলাকাবাসীর মতে, সামাজিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব থেকেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম হচ্ছে।
বাঘারপাড়া থানার ওসি শাহজালাল আলম বলেন, সাহাবীর মৃত্যুর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।