ভারত থেকে নেমে আসা পানির ঢলে এবং ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহিপুরে তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি’র স্থাপন করা বাঁশের পাইলিং তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর লালমনিরহাটের আঞ্চলিক সড়কটি।
পানি উন্নয়ন র্বোড এবং স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে তীব্র নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত বাঁধের অন্তত ৩৫ মিটারের বেশি অংশ ভেঙ্গে ৬০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে দুই জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই সড়কে প্রতিদিন মহিপুরের তিস্তা সড়ক সেতু হয়ে অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে থাকেন। নদীর এই ভাঙ্গনের ফলে আতঙ্কে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এছাড়া রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হবার শঙ্কায় লক্ষীটারী ইউনিয়নের তিন গ্রামের হাজারের বেশি পরিবার সরাসরি হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গত বছর সেতু রক্ষা বাঁধটির প্রায় ১‘শ ফিট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হুমকির মুখে পড়েছিল সেতুটি। সে সময় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং দিয়ে দায়সারা গোছের ভাঙ্গন রক্ষার চেষ্টা করে এলজিইডি। পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সেই বাঁশের পাইলিং ভেদ করে আবারো পানির স্রোতের আঘাতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বাঁধটি। এলাকাবাসি জানান, নদীতে পানি বাড়ার ফলে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এলাকাবাসি জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন রংপুর শহরে যেতে হয়। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা বলেন, বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এর ভাঙ্গন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল বৃদ্ধি আরো তীব্র হলে পরিস্থিতি বিপদজনক হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয় বাঁধ ভেঙ্গে গেলে সেতুসহ এলাকার ফসলী জমিও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে মহিপুরে তিস্তাবাঁধ রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। গঙ্গাচড়ার লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, গত বছর সেতু রক্ষা বাঁধটিতে ভাঙ্গনের সময় এলজিইডিকে ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে পরার্মশ দেয়া হয়েছিল। অথচ ১৪ লাখ টাকা দিয়ে বাঁশের পাইলিং দিয়ে এখন বিপদ জনক অবস্থায় ফেলেছে। এখন সেই পাইলিংয়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জানান, গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করে এ ধরনের পাইলিং করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেকারণে এটা করা হয়েছিল। আবারো ভাঙ্গন দেখাদেয়ায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, নদী ভাঙ্গনস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।