ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রায় দুই বছর আগে হারিয়ে যাওয়া একটি মুঠোফোন ফিরে পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় পর হারানো ফোনটি ফিরে পেয়ে ডাকসুর প্রতি বিশেষ করে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থী।
জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ওই শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি হারিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে সেটি ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন তিনি। বিষয়টি ডাকসুকে জানালে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় মুঠোফোনটি ঐ শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে টিউশনের টাকা জমিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় সেই ফোন ছিনতাইয়ের শিকার হয়, চুরি হয়ে যায় কিংবা অসাবধানতাবশত হারিয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই সেই জিডির কার্যকর অগ্রগতি হয় না। তাই আমরা ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি সমন্বয় ও যোগাযোগের একটি কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা যায়।’
এই ভুক্তভোগীর বিষয়টি ডাকসুর নজরে এলে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে আজ আমরা তার হারানো ফোনটি উদ্ধার করে তার হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি।
১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটি সাইবার ক্রাইম কর্তৃক বিপি মোশারফ ভাইয়ের অবদানে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে দেওয়া হইলো। ১৮ এপিবিএন রাঙ্গামাটি সাইবার ক্রাইম পুলিশকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। বিশেষ করে বিপি মোশারফ ভাইকে, তিনি সবসময় বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করে আসছেন। তার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, একজন শিক্ষার্থীর অনেক কষ্টে জমানো টাকায় কেনা ফোনটি প্রায় এক বছর পর হলেও উদ্ধার করে তার হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। ফোনটি ফিরে পাওয়ার পর শিক্ষার্থীর মুখে যে হাসি দেখেছি, সেটিই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আমরা প্রতিটি সমস্যাই গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি এবং সেগুলো সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। অনেক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হই, আবার কিছু ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আজ যার ফোনটি আমরা তার হাতে তুলে দিতে পেরেছি, তিনি অনেক আগেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আজ আমরা তার হারানো ফোনটি উদ্ধার করে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। একইভাবে আরও অনেক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও প্রক্রিয়াগত কারণে অনেক ক্ষেত্রে ফোন উদ্ধার বা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই ফোনটি উদ্ধারের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করেছেন। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি একই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখবেন।’