ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সুত্র জানিয়েছে, আগামী ২/৩ দিন এই অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​হঠাৎ করে পানি বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিস্তা পাড়ের মানুষ। মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার মৎস্যচাষি রাইসুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ করে পানি বাড়ছে, এদিকে আবার বৃষ্টিও পড়ছে। পুকুরে মাছ রয়েছে, সেগুলো ভেসে যায় কিনা তা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। তাছাড়া পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই আবার ভাঙনও দেখা দেবে। কবে যে তিস্তার কাজ হবে আর আমাদের এই কষ্ট দূর হবে তা জানি না।

তিস্তার বাঁধে কথা হয় সাবেক স্কুল শিক্ষক মোঃ মহিরুদ্দিনের সঙ্গে; তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার আমাদের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। শুষ্ক মৌসুমে যখন পানির জন্য হাহাকার অবস্থা তখন গেট বন্ধ করে দিয়ে আমাদেরকে কষ্টে রাখে। আর বন্যা মৌসুমে যখন পানির প্রয়োজন নেই তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গজলডোবা ব্যারেজের ৫৪ টি গেট খুলে দিয়ে আমাদেরকে ভাসিয়ে দেয়। আমি ভারতের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।

তিস্তার তীরের উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের মোঃ মোন্তাজুর রহমান বলেন, তিস্তার তীরবর্তী এলাকার রাস্তা ঘাট ডুবে গেছে। এভাবে পানি আসতে থাকলে যে কোন সময় আরো ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার ভোর থেকে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা। তাই এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিস্তা ব্যারেজের নিবাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার বেলা ৩ টায় তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খোলা রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি।