• এনবিআর সংস্কার হবে
  • কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে
  • ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে দেশে ক্রাইসিস তৈরি হবে: জ্বালানি মন্ত্রী
  • ইসলামি ব্যাংকে অনিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করিনি, গ্রাহকের চিন্তার কিছু নেই-গভর্নর
  • বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করার জন্য রাজস্ব বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কে সংস্কার করে ডিজিটালাইজেশন করা হবে। আর সারাদেশের সকল দোকাপাট, রেষ্টুরেন্টকে কর নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাজেট সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কথা চিন্তা করে করা হয়েছে। কোন মেগা প্রকল্প নয়, মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হবে। ধীরে ধীরে ঋণের বোঝা থেকে বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এনবিআরকে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশনের মাধ্যমে এফিসিয়েন্সি বাড়ানো হবে। আর সারাদেশের সকল দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট একটা ফ্ল্যাট রেটের মাধ্যমে চলে আসবে, নেটওয়ার্কের মধ্যে চলে আসবে। বর্তমানে এনবিআর যেখানে আছে, এনবিআর-এর কিছু সংস্কারের মধ্যে যাবে এবং এনবিআরকে বাইফারকেশন এর যে বিষয়টা, সেটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটা হচ্ছে পলিসি মেক করবে, আরেকটা হচ্ছে বাস্তবায়ন করবে এবং এটার পলিসি মেকিং বডিতে কারা কারা কীভাবে থাকবে, সেটাও আমি আমার বক্তব্যে বলেছি এবং যোগ্য ব্যক্তিরা সেখানে থাকবে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আমরা কিন্তু ফ্ল্যাট রেট এর মাধ্যমে এনবিআর-এর ট্যাক্স নেট কিন্তু অনেক বড় হবে। আপনারা নিশ্চয়ই বক্তব্যে খেয়াল করেছেন, সমস্ত দেশে আমাদের যত দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট যারা আছে, সবাই একটা ফ্ল্যাট রেটের মাধ্যমে চলে আসবে, নেটওয়ার্কের মধ্যে চলে আসবে। আর তৃতীয় কথা হচ্ছে, এনবিআরকে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশনের মাধ্যমে এটার এফিসিয়েন্সি বাড়ানো এবং দুর্নীতি শেষ হবে। এবং এটাতে যদি কোনো দুর্নীতি থাকে, এটার দুর্নীতি কমে আসবে থ্রু ডিজিটালাইজেশন এবং ট্রান্সপারেন্সি চলে আসবে। যত বেশি ট্রান্সপারেন্ট হবে, তত বেশি ট্যাক্স বাড়বে।

বিনিয়োগে বাধা দূর করতে উচ্চক্ষমতার টাস্কফোর্স হবে

বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমানোর (ডিরেগুলেশন) উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একইসঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, বিলম্ব কিংবা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে যেতে হবে এবং এটি এখন আর বিকল্প নয়, বরং বাধ্যবাধকতা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যেসব নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি হাইপাওয়ার্ড টাস্কফোর্স সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।

তিনি বলেন, ‘‘নতুন বিনিয়োগ নীতিমালা কোথায় লঙ্ঘিত হচ্ছে, কে বাধা সৃষ্টি করছে কিংবা কোথায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছেÑএসব বিষয় টাস্কফোর্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, “বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ডিরেগুলেশন কার্যকর করতেই হবে। এটি বাস্তবায়নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। কোনও সেবা নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন না হলে কেন বিলম্ব হলো, কার কারণে হলো- তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি বা ‘পিপলস ইকোনমি’ বাস্তবায়ন শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য বেসরকারি খাত, এনজিও এবং বিভিন্ন অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।’’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘বরিশালের কোনও প্রান্তিক নারী যদি শীতল পাটি তৈরি করেন, তাহলে সেই পণ্যের নকশা উন্নয়ন, বাজার সম্প্রসারণ এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে ৭০০ টাকার পণ্যকে ২ হাজার টাকার পণ্যে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইন সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’’

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত করা হবে এবং প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ থাকবে। শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়নও শুরু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই সরকার প্রতিদিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়ার এক মাসের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচিরও পাইলট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আমরা কোনও বিষয়কে শুধু নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।”

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অতীতে এক বছরের প্রকল্প শেষ হতে সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত লেগেছে এবং এতে ব্যয়ও বহুগুণ বেড়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।’’

এ জন্য একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দফতরগুলো থেকে প্রকল্পের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও প্রকল্প পিছিয়ে পড়লে বা ব্যর্থ হলে তার কারণ ও দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্যও সেখানে দৃশ্যমান হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারবো কিনা তা সময়ই বলবে। তবে যদি ঘোষিত কর্মসূচির ৮০ শতাংশও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।”

র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো যাবে না

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব-পুলিশ কিংবা কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের ওপর নির্ভর না করে কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি, বাজার ব্যবস্থার দক্ষ পরিচালনা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাজারে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সামগ্রিক বাজার সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক অদক্ষতা দূর করা, অতিরিক্ত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যয় কমানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত কাঠামোগত সংস্কারগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার কোনো বিকল্প নেই।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির নানাদিক নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে দেশের সামষ্টিক মূল্যস্ফীতির ওপর বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, যার সঙ্গে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি যুক্ত হয়েছে। এর বাইরে দেশের ব্যাংক খাতে বড় ধরনের মূলধন ঘাটতি এবং বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক হারে অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকগুলোর তহবিলের ব্যয় বা কস্ট অব ফান্ড অনেক বেশি রয়েছে, যার সরাসরি ও সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রতিফলন পড়ছে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ও খুচরা বাজারের ওপর। বিশ্ববাজারে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও নিত্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ার কারণেও দেশের বাজারে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বা কস্ট অব ডুইং বিজনেস কমাতে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা কিংবা আমদানি-রপ্তানির প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন পেতে বাংলাদেশে বর্তমানে অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যেখানে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অদৃশ্য ব্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের চড়া সুদের হার, দেশের বন্দরগুলোতে পণ্য খালাস থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত নানা ধাপের অতিরিক্ত খরচ এবং বিভিন্ন খাতের প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার কারণে ব্যবসার সামগ্রিক ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়, সেখানে সরকারের সরাসরি করার খুব বেশি কিছু থাকে না মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে যেসব কারণে ব্যবসার কৃত্রিম ব্যয় বাড়ে, সেগুলো শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর একটি বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা সহজীকরণের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত নিচের দিকে থাকায় এখানে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও অনেক বেশি, যা আমূল পরিবর্তনের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমানোর ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কার্যকর রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পণ্যের মূল উৎস বা উৎপাদনস্থল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে নিয়মিত আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য ও সারসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা থাকতে হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তত তিন মাসের অগ্রিম মজুত এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার বা স্পট মার্কেট থেকে তাৎক্ষণিক ক্রয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যেখানে বিশ্ববাজারের মূল্যের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত গুদাম ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত রাষ্ট্রীয় মজুত গড়ে তোলা গেলে আমদানি ব্যয় অনেক কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা আনা, আমলাতান্ত্রিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বন্দরকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমানো গেলে সামগ্রিক ব্যবসার খরচ এবং পণ্যের পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি সরকারি খাতের দুর্নীতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে কি না- এমন একটি সরাসরি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত খোলামেলাভাবে বলেন, মানুষের যখন মৌলিক অভাব থাকে, তখন জীবনধারণের তাগিদে দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার একটি মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তব প্রবণতা তৈরি হয়, এটি সমাজ বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি নির্মম সত্য এবং তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো বা জাতীয় পে-স্কেল প্রায় ১১ বছর ধরে নতুন করে সমন্বয় করা হয়নি এবং এই দীর্ঘ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে সেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্রুত পুনর্নির্ধারণ ও সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে অনেক ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতিনিয়ত বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দুই খাতের চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মধ্যে একটি বড় ধরনের সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। নতুন বাজেটের ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করে যখন তাদের বৈধ আয় বাড়বে এবং জীবনযাত্রা উন্নত হবে, তখন মাঠপর্যায়ে ও দাপ্তরিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবেই অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান তিনি।

দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পুরোপুরি সচল ও স্থিতিশীল হতে দীর্ঘ সময় লাগবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং একে টেকসই ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন। আগামী অন্তত দুই বছর কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়কে এগিয়ে নিতে হবে এবং এরপর ধীরে ধীরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, যার সুফল হিসেবে চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে গিয়ে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াবে। বর্তমান সরকার অতীতে নেওয়া তথাকথিত বড় বড় ও অনুৎপাদনশীল মেগা প্রকল্পের মোহের বাইরে গিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করার দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি বা অর্থের সঠিক ব্যবহার কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতকে অর্থনীতির একটি নতুন ও শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে ঢাকার অদূরে পূর্বাচলে ১৬০ একর বিশাল জায়গাজুড়ে একটি বিশ্বমানের সমন্বিত ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ে তোলার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, থিয়েটার, শিল্পকলা, আধুনিক ডিজাইন স্টুডিও, বিনোদন কেন্দ্র ও নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিশাল কেন্দ্রটি শুধু মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রই তৈরি করবে না, বরং সংস্কৃতিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও আয়মুখী শিল্পে রূপান্তর করে লাখো তরুণের কর্মসংস্থান ও পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করছে।

জমির মৌজার সরকারি রেট নির্ধারিত হবে

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং আবাসন খাতে কালো টাকা প্রতিরোধ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মৌজার সরকারি রেট বা জমির নির্ধারিত মূল্য প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম থাকে, যা বছরের পর বছর ধরে কালো টাকা তৈরি ও তা সাদা করার একটি আইনি ফাঁকফোকর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ জন্য সরকার পুরো বাংলাদেশে একটি নিবিড় মৌজাভিত্তিক ডিজিটাল সার্ভে শুরু করতে যাচ্ছে যেন মৌজার রেটকে জমির প্রকৃত মার্কেট প্রাইসের সমকক্ষ করা যায়, যা সম্পন্ন হলে দেশে কালো টাকা ও কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

একই প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ফ্ল্যাট বা জমি ক্রেতারা যখন ডেভেলপারদের কাছ থেকে প্রকৃত মূল্যে ফ্ল্যাট কেনেন, তখন রেজিস্ট্রেশন খরচ বাঁচাতে অনেক কম মূল্য দেখিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করেন, যা মূলত মারাত্মক ট্যাক্স ফাঁকি। এনবিআরের কাছে এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে এবং পরবর্তীতে ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করে জরিমানাসহ অতিরিক্ত ট্যাক্স আদায় করা হবে। তবে আবাসন খাতে সাময়িক স্বস্তি দিতে কেউ যদি নিজের থেকে অপ্রদর্শিত অর্থ ডিক্লেয়ার বা ঘোষণা করেন, তাহলে নিয়মিত করের পাশাপাশি মাত্র ২০ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা কর দিয়ে তা আইনিভাবে বৈধ দেখানোর একটি বিশেষ সুযোগ এই বাজেটে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিজস্ব ব্যাখ্যা। সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যাংকগুলো নিয়ে ছড়ানো সব ধরনের নেতিবাচক তথ্য ও গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্মিলিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয়, বরং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তবে ব্যাংকিং খাতের সংকট কাটাতে তিনি একটি বড় ধরনের নীতিগত ও নৈতিক দ্বিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি ও পাচার করে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন সাধারণ রিকশাচালক বা নিম্ন আয়ের করদাতা যিনি প্রতিদিন পণ্য কিনে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রকে ভ্যাট দেন, তার কষ্টের করের টাকা রাজস্ব খাত থেকে এনে এই ব্যাংকের ক্ষতি বা চুরি হওয়া আমানত পূরণ করা কতটুকু ন্যায়সঙ্গত, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও নীতিপ্রণেতারা গভীর নীতিগত দ্বিধায় রয়েছেন। কারণ একবারে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে এনে দেওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য বাস্তবসম্মত নয়, তাই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য বিকল্প উপায়ের মাধ্যমে এর টেকসই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

টাকা চুরির বিষয়টি বর্তমান প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে অনুসরণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক প্রায় ১০টি সংস্থার সঙ্গে আইনি চুক্তির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশ্বের একাধিক দেশে পাচারকারীদের অবৈধ সম্পদ ফ্রিজ বা জব্দ করার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আর্থিক লেনদেনকে শতভাগ ক্যাশলেস ও আধুনিক করতে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশজুড়ে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে, যা নগদ টাকার ওপর নির্ভরতা কমাবে।

ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করলে দেশে ক্রাইসিস তৈরি হবে: জ্বালানি মন্ত্রী

বিগত সরকারের সময়ে চালু হওয়া বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কোম্পানিগুলোকে এখনো ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এটি বন্ধ করা হলে সরকার বিদ্যুৎ বিভাগ চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি বসেছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী। তখন তারা তাকে জানিয়েছে বর্তমান সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ করে দিলে তাদের কাছে ব্যাংকগুলো ঠিকই টাকা নেবে। এজন্য তারা সরকারকে ক্যাপাসিটি চার্জ অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেছে যে আপনি যদি ক্যাপাসিটি চার্জ এখন বন্ধ করে দেন আমাদের ব্যাংকে আমাদের টাকা পড়ে যাবে। আমরা সেটা পারবো না। আর যদি ক্যাপাসিটিটা বন্ধ করে দেন তাহলে আমরা পাওয়ার চালাতে পারবো না। তাহলে আমার অবস্থাটা বুঝতে হবে আপনাদেরকে। আমি যদি এটা জোর করতে চাই, যদি পাওয়ার বন্ধ করে দেয় তাহলে কিন্তু এই দেশের মধ্যেও আবার পাওয়ারের ক্রাইসিস সৃষ্টি হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের যে পাওয়ার স্টেশনগুলো ছিল সেই পাওয়ার স্টেশনগুলো কোনো মেরামতও করে নাই। মেনটেইনেন্স করে নাই। তাদেরকে বসে রেখেছিল এবং সব পাওয়ার ক্রয় করা হয়েছে প্রাইভেট পাওয়ার থেকে। যার জন্য ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া হয়ে গেছে। আমরা এই ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে আমরা অপিনিয়নের (সিদ্ধান্তের) জন্য পাঠিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ফেভারেবল অপিনিয়ন (সিদ্ধান্ত) আসলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই ক্যাপাসিটি চার্জটাকে অ্যাড্রেস করব। কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে যে ফ্যাসিস্ট সরকার এই জিনিসগুলো করেছিল। এগুলো করার জন্য আমরা জাস্ট তাদের ব্যাগেজটা ক্যারি করছি।’

এসময় তিনি সরকারের জ্বালানি বিভাগের দুটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, আমি দুইটা এক্সাম্পল (উদাহরণ) দিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করব। একটা হলো পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাঁচ লক্ষ ডিজিটাল মিটারের অর্ডার দিয়েছে। আড়াই লক্ষ মিটার এনেছেন। এনে এই তিন বছরে মাত্র ৬৫টি মিটার সিংক্রোনাইজ করতে বলেছে। আর সব পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গুদামে মিটারগুলো পড়ে আছে। এর মধ্যে আরও যে আড়াই লক্ষ মিটার আমরা এসে যখন দেখলাম যে, পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে অলরেডি জাহাজীকরণের অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় সরকার সেই পাঁচ লাখ মিটার অর্ডারকে বাতিল করতেও পারছে না। এভাবে বিগত সরকার এভাবে বিভিন্নভাবে লুটপাট করেছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে বিদ্যুতের আরেক কোম্পানি ডিপিডিসি উন্নয়ন করার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যবস্থা করেছে। এখানে ৬৫টা সাবস্ক্রিপশন করার কথা। প্রকল্পের যে মেয়াদ ছিল সেই মেয়াদ নভেম্বর মাসে শেষ হবে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৮টি সাবস্টেশন বসেছে। কিন্তু এই কোম্পানিটি প্রফিট করতে না পারলেও তারা রাজধানীর শাহবাগ থানার পাশে একটি টুইনটাওয়ার নির্মাণ করছে বলে জানান। তার মতে, ডিপিডিসি উন্নয়ন করার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবলের ব্যবস্থার প্রকল্পটি এখন বাতিল করলে সরকারের পুরো টাকা ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা গেলেও আমাদের জন্য খুব ডিফিকাল্ট এই যে প্যাকেজগুলো দিয়ে গেছে, লুটপাট করে চলে গেছে, এগুলো আমরা তিন মাস চার মাসের গভর্নমেন্ট আসছি আমাদেরকে অ্যাড্রেস করতে হচ্ছে। সুতরাং আপনাদেরকে আমাদের একটু সময় দিতে হবে এই জন্য এগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট ও হরমুজ প্রণালীর জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার মধ্যেও দেশের তেল সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল ছিল এবং বর্তমানে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

টুকু বলেন, গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সংকটের পর কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে নির্ধারিত উৎস থেকে সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে।

মন্ত্রী জানান, এ সময় সরকার প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করে দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো ধরনের ড্রাই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের বকেয়া ও আর্থিক ঘাটতি ছিল। আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কেনা হলেও তা ভোক্তাদের কাছে কম দামে সরবরাহ করার কারণে একটি বড় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে, যা ধীরে ধীরে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান বিল পরিশোধ ও খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সরকার কাজ করছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যাতে সমুদ্রের ব্লকগুলোতে যৌথভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো যায়।

মন্ত্রী বলেন, সমুদ্র বিজয়ের পরও বাংলাদেশ প্রত্যাশিত হারে গ্যাস অনুসন্ধানে এগোতে পারেনি। অন্যদিকে যেসব দেশ সমুদ্র সীমা অর্জন করেছে, তারা সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলন করে রফতানি পর্যন্ত করছে। আগামী এক মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে রপ্তানি পণ্যের জন্য কমপ্লায়েন্স বাধ্যবাধকতা থাকায় বাংলাদেশকেও এই খাতে অগ্রসর হতে হবে।

ইসলামি ব্যাংকে অনিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ করিনি, গ্রাহকের চিন্তার কিছু নেই-গভর্নর

ইসলামি ব্যাংকে অনিয়মতান্ত্রিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, গভর্নর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামি ব্যাংকে ৫ সদস্যের একটি বোর্ড ছিল। ওই বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক কারও বদলি বা পদোন্নতির বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে ইসলামি ব্যাংকে সরকার অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু হয়নি।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ঈদের আগের দিন সকাল থেকে ইসলামি ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান শুরু হয়। পরে বিকেলে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই ব্যাংকটিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব আইন ও বিধিমালা রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো প্রয়োগ করা হবে।

গভর্নর আশ্বস্ত করে বলেন, আমার মনে হয় না যারা আমানতকারী, তাদের কোনো সমস্যা হবে। আমানতকারীরা যেকোনো সময় তাদের টাকা তুলতে পারবেন। ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমারজেন্সি লিকুইডিটি) চেয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সহায়তা দেওয়া হবে।

ঋণ খেলাপীর বিষয়ে মুখ খুললেন গভর্নর

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নিজের নিয়োগকালীন সময়ে ওঠা ‘ঋণ খেলাপি’ হওয়ার বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে প্রথমবার মুখ খোলেন এবং দেশের গণমাধ্যমের সামনে তার ব্যক্তিগত আইনি অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জোরালোভাবে তথ্য-প্রমাণসহ ব্যাখ্যা করে বলেন, তার মালিকানাধীন নারায়ণগঞ্জভিত্তিক তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হেরা সোয়েটার্স একটি বিশ্বমানের পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ফ্যাক্টরি, যা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি, কোনোদিন কারখানাটির এক্সপোর্ট আটকায়নি বা শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকেনি। কারখানাটির শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক এফএসএসপি প্রজেক্টের অধীনে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাংক হঠাৎ ফান্ড শেষ হওয়ার অজুহাতে সুদের হার বাড়িয়ে ৯ থেকে ১১ শতাংশ করে দেয়। এর পরপরই বিশ্বব্যাপী কোভিডের মহামারি শুরু হওয়ায় কারখানার প্রাথমিক প্রজেকশন অনুসারে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের কিস্তিতে কিছুটা বিলম্ব বা ওভারডিউ হয়েছিল। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি কোনোদিন ব্যাংকের কাছে এক টাকাও ঋণ মওকুফ বা ওয়েভার চায়নি এবং ইতোমধ্যে ব্যাংকের মূল পাওনা থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি নিয়মিত পরিশোধ করে দিয়েছে।

ব্যাংকিং আইন ও বিধিমালা মনে করিয়ে দিয়ে গভর্নর বলেন, গত বছরের এপ্রিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার আওতায় আইনসম্মতভাবে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বা এককালীন অর্থ জমা দিয়ে তিনি ওই ঋণটি আগামী ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল বা রিসিডিউল করেছেন। দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং আইন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করেন, তবে তাকে আর খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করার কোনো আইনি সুযোগ থাকে না। সেই হিসেবে আইনগতভাবে তিনি বর্তমানে কোনোভাবেই ঋণখেলাপি নন এবং একটি মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বারবার প্রচার করে বাজারে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ব্যাংকের চুরির টাকার ক্ষতিপূরণ নিয়ে দ্বন্দ্বে সরকার

আমাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ টাকা চুরি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রথম কাজ হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্থিতিশীল করা। অনেকেই বিভিন্ন কথা বলছেন, তবে বাস্তবতা হলো পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই সমস্যাগ্রস্ত ছিল। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আগের সরকার একটি স্কিম করে গেছে, সেই অনুযায়ী এখন পেমেন্ট দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আরেকটি বিষয় হলো, আমরা নিজেরাও এক ধরনের দ্বন্দ্বে আছি। কিছু মানুষ ব্যাংকে টাকা রেখেছে, আর অন্য একটি গোষ্ঠী সেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন করদাতা তিনি রিকশাচালক হোন বা অন্য কেউ, যিনি পণ্য কিনে পরোক্ষভাবে কর দেন, তার টাকার কতটুকু ব্যবহার করে এই ক্ষতি পূরণ করা হবে? এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিগত দ্বিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি সক্ষমতার বিষয়ও আছে। আমাদের জানামতে, ব্যাংক খাতে সার্বিক কোনো সংকট নেই। মূলত পাঁচটি ব্যাংকে সংকট রয়েছে এবং আরও কিছু ব্যাংকের কিছু সমস্যা আছে। এসব বিষয়ে আমরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, একসঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব খাত থেকে এনে দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি বাস্তবতা। তাই অন্য যে-সকল আর্থিক প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, টাকা চুরির বিষয়টি আমরা প্রথম দিন থেকেই কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। এ জন্য একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ গঠন করা হয়েছে এবং আমরা নিয়মিত বৈঠক করছি। তবে নির্মম সত্য হলো, বিশ্বব্যাপী চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের সাফল্যের হার খুবই কম। তবু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা চেষ্টা বন্ধ করে দেব।

গভর্নর বলেন, সাধারণত এসব সম্পদ উদ্ধার করতে পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তারপরও আমাদের অঙ্গীকার হলো, যারা টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। বিভিন্ন দেশে সম্পদ জব্দের কাজ চলছে। আমরা একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছি এবং প্রায় ১০টি সংস্থা আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে তাদের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের একটি যৌথ তদন্ত দলও রয়েছে, যারা নিয়মিত কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা কিছু ছোট সাফল্য পেয়েছি। সময়মতো এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানানো যাবে। কিছু অর্থও আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। তবে যারা টাকা পাচার করেছে, তারা সাধারণত এক দেশ থেকে আরেক দেশে অর্থ সরিয়ে নেয় এবং বহু স্তরে লেনদেন গোপন করে। ফলে তাদের অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমরা তাদের অনুসরণ অব্যাহত রাখব, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।

‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে

মোস্তাকুর রহমান বলেন, তবে তারল্য বা লিকুইডিটি নিয়ে আমি কোনো বড় সমস্যা দেখছি না। মানুষ নিশ্চিন্তে ব্যাংকে টাকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে দেশে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমেই সবাই সবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে। ভারতের মতো বাংলাদেশেও ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। এতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।

দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিনির্ধারণী সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে ও দর্শকসারিতে উপস্থিত ছিলেনÑ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনিসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন আমলারা।