হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে গতকাল বুধবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানি হামলার হামলার জবাবেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।হামলার পর তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি হয়েছে।
আলোচকরা চাইলে আপাতত শান্তি আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। আল-জাজিরা, গালফ নিউজ, এএফপি, আনাদুলো, সিএনএন, তাসনিম।
শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত
প্রায় তিন সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখবে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। কিন্তু নতুন হামলা ও ট্রাম্পের বক্তব্যের পর সেই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৮৫ মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা তেহরানের
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে ৮৫টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে আইআরজিসি যুদ্ধবিরতির ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ দুটিতে ওই হামলা চালানোর পাশাপাশি আইআরজিসি একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে পাল্টা হামলা চালানোর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের সদর দপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স থেকে দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। স্পষ্ট আগ্রাসন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এ হামলাকে।গত মঙ্গলবার ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় উপলক্ষে সাত দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ হামলা চালায়।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, এদিন তারা ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল নিশানায় হামলা চালিয়েছে। তাদের বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ওপর এ হামলা চালিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পরপরই এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছিল, এ পদক্ষেপের জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে।বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়।ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচলের একমাত্র পথ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত রুট।’হরমুজ প্রণালিতে ইরানের গৃহীত ব্যবস্থার লঙ্ঘন, বারবার হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে জায়নবাদী (ইসরায়েলি) আগ্রাসন অব্যাহত রাখা—এ সবই সমঝোতা স্মারকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের গৃহীত ব্যবস্থার লঙ্ঘন, বারবার হামলার হুমকি, ইরানের তেল খাতে আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে জায়নবাদী (ইসরায়েলি) আগ্রাসন অব্যাহত রাখা এ সবই সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন।’
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩২ কোটি টাকার ড্রোন ভূপাতিত ইরানের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মহবি বলেন, বুশেহর শহরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোনটিকে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ধ্বংস করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনটির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৩২ কোটি টাকা।
এমকিউ-৯ রিপার যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত একটি অত্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোন। এর মৌলিক কাঠামোর উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে এতে মাল্টি-স্পেক্ট্রাল টার্গেটিং সিস্টেম, থার্মাল ক্যামেরা, উন্নত রাডার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত হলে একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রোনের দাম ৩ থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়।
বিশেষায়িত নজরদারি প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত সংস্করণের মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করল ইরান
ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, এই হামলা যুদ্ধ অবসান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক-এর গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান।
গতকাল বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফা লঙ্ঘন করে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব রাষ্ট্রের, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্ব হলো—তাদের ভূখ- বা স্থাপনা ব্যবহার করে যেন কোনো আগ্রাসী পক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হামলায় কোনো দেশের সহযোগিতা আগ্রাসনের অপরাধে অংশগ্রহণ ও সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আঞ্চলিক অখ-তা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না এবং হামলার উৎস ও দায়ী পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
জাহাজে হামলার জেরে ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের ওপর আরোপিত তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুমতি বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়ে ইরানের জন্য যে প্রধান অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তা আর কার্যকর থাকছে না।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। কাতার ও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, তাদের কয়েকটি জাহাজের ওপর ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে চলমান আলোচনায় ইরানের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ওই ছাড়ের আওতায় ইরানকে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি এবং সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই জানিয়েছিল, যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ওপরই এই সুবিধা নির্ভর করবে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষকদের তথ্য এবং কাতারের দাবি অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ।
সব সামরিক ঘাঁটি ড্রোনের লক্ষ্য বস্তু হবে
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ড্রোনের ‘বৈধ নিশানা’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। গতকাল বুধবার তুরস্কের বার্তা সংস্থা এই খবর জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তারা বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর একটি সমাবেশ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুতামূলক আগ্রাসন’ এবং ১৪ দফার যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘনের জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইরানি বাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, ‘অপরাধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বারবার এবং নির্লজ্জভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার পরিণতি হবে এই অঞ্চলের সব আমেরিকান ঘাঁটি আমাদের ড্রোনের বৈধ নিশানা বনে যাবে।’
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ‘বাতিল’
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না।
বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা অত্যন্ত খারাপ মানুষ। তাদের নেতৃত্বও খারাপ মানুষের হাতে। তারা সহিংস। তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা তা ব্যবহার করত। আমার দৃষ্টিতে বিষয়টি শেষ।’
তবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। যদিও তিনি আলোচনার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয় তারা শুধু সময় নষ্ট করছে।’
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আগের হামলাগুলোর তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর মাহশাহর ও বুশেহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বন্দর মাহশাহরে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলার জবাবে ইরানের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি, তেল নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসন—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তার ভাষায়, ‘ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ। ইরান নতি স্বীকার করবে না।’
খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘প্রকাশ্য আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের জবাবে তারা ‘বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে এবং হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।