ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি:
হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু
কৌশলগত অবস্থান: মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
আক্রান্ত এলাকা: ইরানের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা যেমন—বন্দর আব্বাস, সিরিক, চাবাহার, রাস্ক এবং হরমুজ প্রণালির বৃহত্তম দ্বীপ কেশমে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় খোররামাবাদ এবং খোনদাব শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা: এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও তার মিত্ররা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা অভিযান জোরদার করেছে। বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা: হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকরের ঘোষণার পাশাপাশি ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ফ্লাইট বাতিল: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় এয়ার ফ্রান্স, এয়ার কানাডা ও এজিয়ান এয়ারলাইন্সসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা দুবাই, রিয়াদ, বৈরুত ও তেল আবিবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সচল করা নিয়ে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।