চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরিবেশবাদী তরুণদের সংগঠন ইয়ুথ থ্রি-আর সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, পরিবেশগত শিক্ষা, গবেষণা এবং তরুণদের নেতৃত্বের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করা এবং সমাজে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনধারা গড়ে তোলা।

সোমবার ( ২২ জুন) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ইনোভেশন হাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. এ.এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরী, প্রক্টর ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দি, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, আমরা শুধুমাত্র বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেই মেইন না দেখে, সাথে সাথে আমরা যদি কোনো শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, এগুলোকেও আমাদের সেক্টরের মধ্যে ঢোকাতে পারি তাহলে ভালো। তামাকের ব্যাপারে গভমেন্টেরও একটা জিরো টলারেন্স আছে। এই তামাকেরটাও যদি আপনারা নেন, আর নিজেরা যদি ধূমপান থেকে বিরত থাকেন, তাহলে সবচেয়ে ভালো।

তিনি আরও বলেন, "আমাদের এখানে ৫৬০ একরের একটা ছোট্ট ফরেস্ট আছে, যেখানে বৈচিত্র্য আছে। সবকিছুই টাকা দিয়ে কেনা যায় না, এই জাতি কিন্তু এটা বহু আগে প্রমাণ করেছে। মানি ক্যান বাই এভরিথিং এক্সেপ্ট হ্যাপিনেস। এই ধরনের আশাবাদী জাতিকে নিয়ে যেকোনো সমাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে পারে এবং সেটার জন্য আগামী দিনের লিডার আমার সামনেই বসা আছে।"

সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: সফিকুল ইসলাম বলেন, "আমাদের সংস্কৃতি ও কনজুমার বিহেভিয়ারে পরিবর্তন আনা জরুরি। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের আচরণ প্রোপার না হওয়ায় পরিবেশ নোংরা হচ্ছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা ও আনহাইজেনিক পরিবেশ তৈরি হয়ে মানুষ অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতির কথা চিন্তা না করে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা মূলত একটি কালচারাল সমস্যা, যা দূর করতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. এ. এম মাসুদুল আযাদ চৌধুরী বলেন, আমরা এমন একটা রিসোর্সফুল কান্ট্রিতে আছি, সবকিছুই ইচ্ছামতো ইউজ করি কিন্তু উন্নত বিশ্বে পানি আসলেই একটা সম্পদ। আল্লাহ পৃথিবীর রিসোর্স যেগুলো দিয়েছে সবগুলোরই একটা শেষ আছে। আজকে আমি যেটা ইউজ করছি ইচ্ছামতো, হয়তো শতবছর পরে আমরা সেটা ইউজ করতে পারবো না।

সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন ইয়ুথ থ্রি-আর সোসাইটির ক্যাম্পেইন ডিরেক্টর ফাতেমাতুজ জোহরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত তাদের মোট ব্যয় ১,৮২,৭১৮ টাকা। এর মধ্যে স্পন্সরশিপ থেকে এসেছে মাত্র ১৩,০০০ টাকা এবং বাকি ১,৬৩,০০০ টাকা সংগঠনের সদস্যদের নিজস্ব অনুদান ও কন্ট্রিবিউশন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬,০০০ টাকার মতো আর্থিক ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আগামী ২০২৬-২০২৭ সালের জন্য সংগঠনটি বেশ কিছু স্ট্র্যাটেজিক গোল বা কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশগত শিক্ষা ও আচরণগত পরিবর্তন, গবেষণা ও জ্ঞান তৈরি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা।​