গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে একাধিক নারী নিপীড়ন ও ক্রমাগত 'ভিকটিম ব্লেমিং'-এর প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে ‘বরিশালের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রনেতা হুজাইফা রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সালাম বাবর, গ্লোবাল ভিলেজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাধনা হাওলাদার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং মোহাম্মদ বেলাল।
সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্ত ছাত্র নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্যাম্পাসগুলোতে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিসমূহ হলো:
১. মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনানুযায়ী প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে 'যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল' পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা।
২. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীদের চরিত্রহনন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অবিলম্বে বন্ধ করা।
৩. ভুক্তভোগীদের আইনি লড়াই সচল রাখতে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক মামলার যাবতীয় খরচ ও আইনি সহায়তার দায়ভার গ্রহণ।
৪. বিশিষ্ট নাগরিক ও নারী অধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক অভিযুক্ত সুজয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
সমাবেশে মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, 'অভিযুক্ত সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তার সংগঠন 'গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল'-এর নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রগতিশীলতার বুলি আওড়ালেও একজন চিহ্নিত নারী নিপীড়কের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রগতিশীল রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অপরাধীকে বাঁচানোর এই চেষ্টা মূলত অপরাধকে সরাসরি প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।”
সালাম বাবর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো উক্ত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের চরিত্রহনন করছেন। এমনকি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরো বলেন, অনলাইন বা অফলাইনে ভয় দেখিয়ে এই ন্যায়সংগত প্রতিবাদ স্তব্ধ করা যাবে না। অবিলম্বে সাইবার হেনস্তা ও হুমকি বন্ধ না হলে প্রতিটি অপরাধীর মুখোশ উন্মোচন করে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।