ইরানের উপর্যুপরি হামলায় কুয়েতের তেল খাতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (কেপিসি) বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ইরানের আকস্মিক ও উপর্যুপরি হামলায় তেল খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইট লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পুরো সাইটটি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কুয়েতের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় সমন্বয় ও যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত এবং ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আল-জাজিরা, তাসনিম, দৈনিক নিদা আল ওয়াতান, উইয়ন নিউজ, আনাদোলু অ্যাজেন্সি, পিন্টারেস্ট।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর কড়া জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো অঞ্চলে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমকে হরমুজগান প্রদেশের প্রতিনিধি আহমাদ মোরাদি জানান, গত দুই রাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় এই প্রদেশে মার্কিন হামলায় ৭-৮ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একটি সেতুতে হামলায় দুটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন নিহত হন। এছাড়া বন্দর আব্বাসের একটি এলাকায় হামলায় এক নারী এবং আগুনে পুড়ে জ্বালানি সরবরাহকারী এক চালক মারা যান। মর্মান্তিক এই হামলায় এক বছর বয়সী এক শিশুর একটি অঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এই হামলার কড়া জবাব দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন বিমানঘাঁটিতে একযোগে ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।

আইআরজিসির দাবি, এতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস এবং বেশ কয়েকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জর্ডানের পবিত্র ভূমি থেকে মার্কিন বাহিনীকে উৎখাত করতে জর্ডানের সেনাবাহিনীর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দোহা থেকে সাংবাদিক লরা খান জানিয়েছেন, এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করছে এবং গুজব এড়িয়ে চলতে বলেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে দেশগুলো কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে; তবে বর্তমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এখনই পিছু হটতে রাজি বলে মনে হচ্ছে না

সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা : সৌদি আরবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে গতকাল শনিবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রায় চার মাসের মধ্যে উপসাগরীয় দেশটিতে তেহরানের এটি প্রথম সরাসরি হামলা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। হামলা বা এর লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই হামলা ঘটল, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে। ইরান সর্বশেষ এপ্রিলের শুরুতে জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে হামলার সময় সৌদি আরবে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল।

খার্গ দ্বীপে হরিণের আর্তনাদ : ইরানের খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পর আতঙ্কে রাস্তায় হরিণের ছুটে চলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ভারতে দেশটির দূতাবাস ভিডিওটি শেয়ার করেছে।