মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আজ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)সহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) কার্যকর করছে। জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নতুন এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে শেষ হচ্ছে। ঠিক সেই সময় থেকেই নতুন ট্যারিফ কার্যকর হবে।
তবে একটি বিশেষ ছাড়ও রাখা হয়েছে। ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটের আগে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে, সেগুলো নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি পুনর্বহালের আরেকটি পদক্ষেপ। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় গত বছর আরোপ করা ১০ থেকে ৫০ শতাংশের তথাকথিত ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বাতিল করে দেয়। এরপর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২-এর আওতায় ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেন, নতুন শুল্ক আগের শুল্কের সরাসরি বিকল্প নয়, যদিও কার্যকরের সময়, শুল্কহার এবং আওতায় মিল রয়েছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু অনেক দেশ এ বিষয়ে দুর্বল প্রয়োগের কারণে অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের অবসান চেয়ে আসছেন। সেই আহ্বানের প্রতিক্রিয়াতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প তার বাণিজ্যনীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে শুল্কসহ সব ধরনের নীতিগত উপায় ব্যবহার করবেন বলেও জানান তিনি।
তবে নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে বেশ কিছু পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণে আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। কারণ উত্তর আমেরিকার সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত সমন্বিত এবং এসব পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপাদানের অংশ উল্লেখযোগ্য।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে, তাদের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর যেসব দেশের আইন ও বাস্তবায়নকে অপর্যাপ্ত মনে করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্ক প্রস্তাব ঘোষণার পর ভারতসহ কয়েকটি দেশ জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইনে অগ্রগতি দেখানোয় তাদের নিম্নহার অর্থাৎ ১০ শতাংশ শুল্কের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স